Saturday, May 25, 2024

সুরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল

সুরা ফাতিহা পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা। ফাতিহা ছাড়াও সাবউল মাসানী, উম্মুল কোরআন, ফাতিহাতুল কিতাবসহ একাধিক নাম রয়েছে এ সুরার। আল্লাহ তায়ালা এই সুরায় বান্দার করণীয় বিষয়ে জানিয়েছেন। এ সুরার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে একাধিক বর্ণনা রয়েছে। এর আমলের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, ‘সূরা ফাতেহার অক্ষর, শব্দ পড়াতে যেমন শেফা আছে তেমনি লেখাতেও শেফা আছে। যে কোনো ধরনের রোগ চাই দ্বীনি হোক কিংবা পার্থিব, অনুভবযোগ্য হোক বা না হোক সব কিছু এ সূরা পড়া বা লেখার বরকতে আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য হবে।’ -(মিরকাতুল মাফাতিহ)

সুরা ফাতিহার ফজিলত 

এ বিষয়ে হজরত আবদুল মালেক ইবনে ওমায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা ফাতেহা সব রোগের মহৌষধ।’- (সুনানে দারেমি, হাদিস ৩৪১৩; মিশকাত, হাদিস ২১৭০)।


হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, কয়েকজন সাহাবি আরবের এক গোত্রে এলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোনো মেহমানদারি করল না। হঠাৎ ওই গোত্রের নেতাকে সাপে কাটে। তখন তারা এসে বলল, আপনাদের কাছে কি কোনো ওষুধ আছে?

তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আছে। তবে তোমাদের আমাদের মেহমানদারি করতে হবে। আমরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। তারা মেহমানদারি করতে রাজি হল। এ ছাড়া আমরা তাদের কাছে একপাল বকরি চাইলাম। তখন একজন সাহাবি উম্মুল কোরআন অর্থাৎ সূরা ফাতেহা পড়ে মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির ক্ষতে মেখে দিলেন। ফলে বিষ নেমে গেল এবং সে সুস্থ হয়ে গেল

সাহাবিরা খাওয়া-দাওয়া করে নবী করিম (সা.)-এর কাছে বকরিসহ ফিরে এলেন। তারা রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন তাদের এ ধরনের কাজ ঠিক হল কি না। নবী (সা.) শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ঠিক আছে বকরিগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও একটি অংশ রেখে দিও।’ (বুখারি, হাদিস ৫০০৬)

হজরত আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা রা: বর্ণিত হয়েছে। একদা হজরত রাসূল সা: বললেন, আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শিক্ষা দেবো না? তারপর যখন মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শেখাবার কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন, তা হলো সূরা ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। এটিই সেই সাতটি পুনঃ আয়াত এবং আমাকে প্রদত্ত মহা কুরআন। ( সুনানে দারেমি. ৪, ২১২২)

সুরা ফাতিহার আমল

সুরা ফাতিহাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র রোগের মহৌষধ। বহু হাদিসে সুরা ফাতিহার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। 

হজরত জাফর সাদেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, সুরা ফাতেহা ৪০ বার পাঠ করে পানির ওপর দম করে কোনো জ্বরে আক্রন্ত লোকের মুখমণ্ডলে ছিঁটিয়ে দিলে, এর বরকতে জ্বর দূরীভূত হয়ে যাবে।

- ফজরের নামাজের সুন্নত ও ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে ৪১ বার এ সুরা পাঠ করে চোখে ফুঁ দিলে চোখের ব্যথা দূর হয়

- শেষ রাতে এ সুরা ৪১ বার তেলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা রিজিক বাড়িয়ে দেন

- এ সুরা ৪০ দিন নিয়মিত তেলাওয়াত করে পানিতে ফুঁ দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করালে আল্লাহ অসুস্থতা দূর করে দেবেন। -( বুখারি, ৬/১৮৭)

সূরা ফাতিহাঃ-

আয়াতসমূহ ও অর্থ  ঃ

                                           بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِ

                                        বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

                                     পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

  1. ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ رَبِّ ٱلْعَالَمِينَ ۝
    আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীন
    সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যে
  2. ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ۝
    আর রহমা-নির রহীম।
    অনন্ত দয়াময়, অতীব দয়ালু।
  3. مَالِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ۝
    মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
    প্রতিফল দিবসের মালিক।
  4. إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ۝
    ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কানাছতা’ঈন।
    আমরা শুধু আপনারই দাসত্ব করি এবং শুধু আপনারই নিকট সাহায্য কামনা করি।
  5. ٱهْدِنَا ٱلصِّرَاطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ۝
    ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
    আমাদের সরল পথনির্দেশ দান করুন।
  6. صِرَاطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ۝
    সিরা-তাল্লাযীনা আন’আম তা’আলাইহিম।
    তাদের পথে, যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন।
  7. غَيۡرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا اَ۬لضَّآلِّينَ ص۝
    গাইরিল মাগদূ বি’আলাইহীম ওয়ালাদ্দাল্লীন। (আমিন )
    এবং তাদের পথে নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার ও পথভ্রষ্ট । ( কবুল করুন 

Tuesday, May 21, 2024

 

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ

Ayatul Kursi in Arabic with Bengali translation:

প্রতিটি মুমিনের একমাত্র চাওয়া জান্নাত।জান্নাতের নেয়ামতসমূহ মানুষ কল্পনা করেও শেষ করতে পারে না মহানআল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রেখেছেন জান্নাতে যাওয়ার জন্য মুমিন বান্দাদের মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী চলতে হবে।

প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেতার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকে না।’ (শুআবুল ঈমানহাদিস : ২৩৯৫যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করে তার মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত হচ্ছে আয়াতুল কুরসি।পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আয়াত এটি। আয়াতে মহান আল্লাহর জোরালো ক্ষমতা ঘোষণা করা হয়েছে।প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা কোনো কঠিন কাজ নয়।সকলেই আয়াতুল কুরসি মুখস্থ করবো। যারা পারি নাতারা বাংলা উচ্চারণ দেখে মুখস্থ করে বিজ্ঞ কারো কাছে বিশুদ্ধ উচ্চারণে মুখস্থ করবো-


 "Ayatul Kursi" is a highly revered verse from the Quran, often recited for protection and blessings. In Bengali, it's often translated as

"আয়াতুল কুরসি" হলো কুরআনের একটি অত্যন্ত প্রশংসিত আয়াত, যা সুরা আল-বাকারা, আয়াত ২০৫ নং সূরার অংশ। এটি রক্ষা এবং আশীর্বাদের জন্য সচেতনে পাঠ করা হয়!

 اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

  1. Transliteration:

Allahu la ilaha illa Huwa, Al-Haiyul-Qaiyum La ta'khudhuhu sinatun wa la nawm, lahu ma fis-samawati wa ma fil-'ard Man dhal-ladhi yashfa'u 'indahu illa bi-idhnihi Ya'lamu ma baina aidihim wa ma khalfahum, wa la yuhituna bi shai'im-min 'ilmihi illa bima sha'a Wasi'a kursiyuhus-samawati wal 'ard, wa la ya'uduhu hifdhuhuma Wa Huwal 'Aliyul-Adheem.

  1. English Translation:

Allah! There is no deity except Him, the Ever-Living, the Sustainer of [all] existence. Neither drowsiness overtakes Him nor sleep. To Him belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. Who is it that can intercede with Him except by His permission? He knows what is [presently] before them and what will be after them, and they encompass not a thing of His knowledge except for what He wills. His Kursi extends over the heavens and the earth, and their preservation tires Him not. And He is the Most High, the Most Great।

আয়তুল কুরসির বাংলা উচ্চারণও আয়তুল কুরসির অর্থ: 

আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হু-ওয়াল হাই-য়্যুল ক্বাই-য়্যুম। লা তা-খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা না-উম। লাহূ মা ফিস-সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আর-দ্ব। মান যাল্লা-যী ইয়াশ-ফাউ -ন্দাহূ ইল্লা বিইজ-নিহ। ইয়া-লামু মা-বাইনা আইদি-হিম ওয়ামা খালফাহুমওয়ালা ইউহি-তূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ’ ওয়াসি-’ কুরসিইয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্বওয়ালা ইয়াউ-দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিই-য়্যুল -জিম।’ (সুরা বাকারাআয়াত : ২৫৫)

আল্লাহর নামে, যিনি পরম দয়ালু ও অতি দয়ালু। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি জীবনযাত্রার অবিবাহিত, সমস্ত বিশ্বাসীর সাথে পরিচ্ছেদ রাখার উপায়। তিনি নিদ্রা প্রাপ্ত হন না এবং তিনি নিদ্রা নেয় না। স্বস্তি আকাশে এবং জমিতে আছে এবং আকাশে আর যা থাকে তার মালিক তিনি। তিনি তার অনুমতিবিহীনে কে তার নির্বাচন করে উপদেশ করতে পারে? তিনি তাদের আগে কী রয়েছে এবং তাদের পরে কী থাকবে সেই সব তিনি জানেন। এবং তারা তার জ্ঞান থেকে কিছুই বোঝেন না ব্যতিত যা তিনি চান। তার কুরসী আকাশ ও জমিতে ছোটে না। এবং তাদের রক্ষণা তার জন্য অক্ষম হয় না। এবং তিনি সর্বোচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ।

সুরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল সুরা ফাতিহা পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা। ফাতিহা ছাড়াও সাবউল মাসানী, উম্মুল কোরআন, ফাতিহাতুল কিতাবসহ একাধিক নাম রয়েছে ...